কবিতা, ধর্মীয় কবিতা, বিরহের কবিতা

দয়াল

জনম গেলো,
দয়াল তোমার ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে
যৌবন গেলো,
দয়াল তোমার পদ ধূলি পাওয়ার লক্ষ্যে
চক্ষু দ্বয় ক্ষয় হইলো;
দয়াল তোমায় দেখবো বলে
সাধের চুল আমার পাকিয়া গেলো,
দয়াল তোমার পথের দিকে চাহিয়া
জীবনের ভেলা ভাসিয়ে গেলাম,
দয়াল তোমার মিলনের আশায়
রঙিন স্বপ্ন গুলি উড়িয়ে দিলাম,
হলুদ খামে ভরে,
দয়াল তোমার উদ্দেশ্যে
কাঁচা বয়সের রসের তরী বিলীন করিলাম
ঘোলা জলের নীড়ে ,
দয়াল তোমার প্রেমে পরিয়া
কত জায়গায় ঘুরে ঘুরে ,
সন্ন্যাসী র ব্যাসে রাত পাড় করছি  …
চেনা অচেনা বটের মূলে,
দয়াল তোমার ধ্যানে পরে  …
সংসার ছাড়িলাম কর্ম ছাড়িলাম,
দয়াল তোমাকে পাবো বলে
অকালে ঝরে গেলো,
শিশির ভেজা পাতা গুলি,
মনের গহীন থেকে,
দয়াল শুধু তোমায় খুঁজে খুঁজে
কোথাও দয়াল তোমায় পাইলাম না;
মোর অস্তমিত ক্ষণে ,
আইস তুমি গোপনে খুব যতনে,
একাকী সংগোপনে ।

কবিতা, ধর্মীয় কবিতা, বিরহের কবিতা

তটের স্রোতে বটের মূলে

ক্লান্তির কাঁটা তারে উন্মাদের কারাগারে,
পুষ্পের ছায়া ভূমির ভূকম্পন অন্তরালে ধূমায়িত হন্তারকে
নগরের নিসর্গ অর্ঘ্যদানে নিশ্চুপ নক্ষত্রমণ্ডলীতে,
ভূমণ্ডলের নৃতত্ত্ব শিল্পের কারুকার্যে সন্তর্পণে অন্তঃপুরে।
রামধনুর রঙিন ঝাঁ –ঝাঁ জ্যোতি দিয়ে
খুঁজি প্রভু তোমার দর্শন পাওয়ার লক্ষ্যে,
জ্ঞাতসারে অন্তসারে হৃদি র অজান্তে ।
নির্বিকার নিরঙ্কুশ আঁধারের অগ্নিময় স্মৃতি বিভ্রমে ,
ছিন্ন মস্তিষ্কের ভয়ানক নিদ্রাবিষ্ট ;
নিদ্রালু নিধন নিনাদে মধ্যরাতে মধ্য মিলে
কস্মিনকালে গোরস্থানের নৈশ প্রহরে।
মাংস বিহীন কঙ্কালে র গৌণ করিডোরে
বিস্বাদের পথ ঘাটে মাঠে ধূসর প্রান্তরে,
চন্দ্র লোকের অন্দর মহলে।
জনাকীর্ণ নিশ্চল উদ্‌ভ্রান্ত চৌরাস্তা র নিষ্করুণের ধ্রুব লোকে
নন্দন কাননের নধরে ধ্বজাধারী র সর্বনাশা ধোঁয়াটে,
ধৃষ্টতা র ময়ূরকণ্ঠী রঙের ভজনা লয়ে
লণ্ডভণ্ডের ছায়া বিলাসী দ্বিধাগ্রস্ত উড়নচণ্ডী র ভূপতিতে।
বিষুব রেখার ব্যঞ্জনা র অসুরে,
রক্তাক্ত শূন্য ঠোঁটের লাজুক গলিপথে,
ঘুমন্ত যৌবনের অযান্ত্রিক দেদীপ্যমান জন্ম শহরে
দুষ্প্রাপ্য দুর্লক্ষ্য অশুভ গ্রহে দুরন্ত ঘূর্ণি জলে,
থমকানো ত্রিলোচনে ত্রি লোকে ত্রিবেণী র গভীর তল দেশে ।
জং ধরা চরাচরে নিভৃত শঙ্কা প্রদেশে,
ট্র্যাজেডির ট্যাণ্ডলে আঁটসাঁট কলের লাঙলে,
পাঁশুটে চন্দ্রিমায় ঊর্ধ্বরোহণের সুপ্রাচীর নিষ্প্রভ বিস্তীর্ণ প্রেতচ্ছায়ায়
কালের বিপন্ন নিকেতনে অগ্রজের নিরর্থক দগ্ধ ত্বকে ।
নন্দিত কল্পনায় জল্পনায় মনস্তাপের
আত্ম দানের কীর্তি র মহা সিংহাসনে,
এঞ্জেলের উদ্ভাসিত ঝুলন্ত পাখার নীলিমায় অস্তগামী
সূর্যের লাল আভার জীর্ণ সবুজ কুঠিরে।
উত্তাল তরঙ্গের তাণ্ডবে র তুমুল মর্চে –পড়া শিরাপুঞ্জের মঞ্জীরে
বেড়াজালে র শংকিলে সুমেরু থেকে কুমেরু উত্তোলিত অরণ্যে,
উপচে-পড়া যমদূতের মৃত্যুর সন্নিকটে র ভিড়ে,
অন্তর্ভেদী মন্ত্র পাঠে নিঃস্পৃহ অবান্তর যূপকাঠে স্তব্ধ দাবানলের বন ভূমিতে ।
বশম্বদ স্বর্গ –নরকের তটের স্রোতে বটের মূলে,
অবলুপ্ত লীলায়িত লোলুপ মৃত্তিকায় ;
খুঁজি তোমায় উম্মাদ কংক্রিটের ন্যায় বিশ্বচরাচরে
মহাশূন্যতে মহার্ণবে মহীসোপানে,
অভিকর্ষের নিষ্পিষ্ট নিঃসঙ্গ ভ্রুকুটি তৃপ্তিকর অসিতের দ্বিপ্রহরে।

কবিতা, বিরহের কবিতা

নোংরা প্রান্তরে

খেয়া র স্রোতে কালের তরঙ্গে বেঁধে চলে গেলে,
অসময়ে অবেলায় ধোঁয়ার সাথে পেঁচিয়ে
ঝড় ক্লান্ত বায়ু স্তরে ।
ঘুম ভরা রৌদ্র ছায়া ভাবনার সুনীল আকাশ ফেলে,
অনন্ত কালের বিশীর্ণ গর্জন শীল;
মিলন প্রয়াসী নিষিদ্ধ নিশীথের জল ধারায় ।
আস্ত কুঁড়ে মরীচিকার কাদামাখা শ্যাওলার জলে রেখে,
ব্যর্থতার অনুশোচিত ক্রান্তি বেলায় ডুব দিলে,
প্রেম দীপ্ত মলিন রঙের ধূসর বালিতে ।
অন্ত্যমিলে উড়ন্ত মেঘের ডানা নিমগ্ন সুগন্ধ পুষ্প মালা ছেড়ে,
ছিঁড়ে চলে গেলে ভর দুপুরে।
ভাসমান শ্রাবণ মেঘের দীর্ঘশ্বাসের প্রহরের পৌর পথে,
কাঁটাঝোপ বিষণ্ণতার সর্বস্বান্ত অরণ্য ময়;
ফণীমনসার বিস্ময় সেমিকোলনের তীর ভূমিতে ।
প্রসন্নতা র নোংরা প্রান্তরে জীর্ণ পান্থশালায় অদ্ভুত প্রদেশে
ছিন্ন তার জাল বিছিয়ে নির্ঘাত দৃষ্টির ছলে,
চলে গেলে আমায় ফেলে সোনালী মাঠের সজীবতার তুচ্ছ সুখ -দুঃখের নীড়ে।

কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, বিরহের কবিতা

নষ্টা ভ্রষ্টা অন্ধকারে

মন মাঝি শুকনো পাতার ছলে পদ্ম পাতার জলে ভেসে যাবে,
দেহ ছিঁড়া খাতা ছিঁড়ে আকাশ গাঙে।
ফেনিল তৃষ্ণার জল ফেলে সীমাহীন প্রস্রবণ অন্তরালে রেখে ,
হৃৎস্পন্দনের মৌনতা ভেঙে উড়াল দিবে
অন্তরীক্ষ ছাড়িয়ে নির্জন স্বর্গ ভূমিতে।
বৈচিত্র্য ময় স্বপ্নপ্রসূ বজ্রমুষ্টি বর্ণিল মাঠের দৃশ্যাবলী;
ইন্দ্রজালের হাতছানির বিষ্ঠা ছুঁড়ে,
হাস্যরোলের তাম্রলিপি ডিঙিয়ে নিংড়িয়ে
ওপারে পাড়ি দিব শূন্য ভুজে।
নিশ্বাসের বাইসাইকেলের সুর বাজিয়ে,
দীর্ঘশ্বাসের রঙ মাখিয়ে খড়কুটো র পরাগ মেখে,
দিনলিপি র কর্মসূচি আহ্লাদের সরাইখানা অধ্যুষিত চৌরাস্তা বলি দিয়ে
যাবো চলে স্বর্গোদ্যানে।
আষাঢ়ী চন্দ্রিমা র অন্তরঙ্গ চুম্বন কালেভদ্রে স গৌরবের প্রসন্ন দ্যুতিময়য় স্মৃতি ছেড়ে ,
একাকী ধ্যানে কায়ক্লেশে শ্রাবণ ঘন দিনে ফাঁকি দিয়ে
যাবো অন্তিম অম্বরে জীর্ণ দহনে।
পুণ্যস্নান সেরে পড়ন্ত বিকেল বেলা হাঁটি হাঁটি নিগূঢ় নিশীথে
জন স্রোতের কোলাহল ফেলে,
রহস্যের সবুজ খয়েরি টিকিট কেটে,
নিঃশব্দ তার উন্মত্ততা ;
উপড়ে ,
তলিয়ে ,
যাচ্ছি …
প্রকট সুবিশাল আদিগন্তে,
ক্রোধের ঝাঁটা কাঁটা বুকের পাঁজরে নিয়ে।
বসন্ত কালের বাগানে,
প্রস্ফুটিত কামিনী রক্তচক্ষু চাতক পাখির ডাক ;
নক্ষত্রের রহস্য পুরী মৃত্যু বর্ষী সিঁড়ির ধাপ বেয়ে ,
ভূমিহীন ঝোপঝাড় সন্ধ্যার অলকা পুরী রূপান্তরিত রৌদ্রাক্রান্ত মাড়িয়ে
হেমন্তের নির্বাসিত অঙ্কুরে নষ্টা ভ্রষ্টা অন্ধকারে,
আজরাইলের হাতে গিয়ে পরবো অবলীলাক্রমে।
যথারীতি মধুর রাগিণী র টানে,
কামার্ত আবেগ কম্পিত সজীব জাগ্রত অন্তলীনে অঞ্জলি ভরে নিশ্চুপ মনে।

কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, বিরহের কবিতা, রূপক কবিতা

অকাল জীবন তরী

ছেঁড়াখোঁড়া অনুভবের স্মৃতি গুলি ফাঁকি দিয়েছে,
দীর্ণ ক্রোধের খেয়ালী পনার ছলে।
কিয়দ্দূরে নিষ্ফল ভাবনার আকাশে ভাসছে,
ধূলোবালি উড়ছে ,
ধমনীর নীল অবিন্যস্ত তৃষিতে।
রোদ্দুরে জমেছে সাদা কালো দুঃখের স্বপ্নিল;
নিরুদ্দেশে ভেসে গেছে ,
নিঃসঙ্গতার ধূসর কচি পাপড়ি যুগল।
অদৃশ্যের বেড়াজালে আটকে গেছে,
গোলক ধাঁধার বহুরূপী মধুর জ্যোৎস্নার প্রভা;
অস্তাচলে,
নিম্ন জলে,
দোলাচলে
মিশে গেছে ,
ব্যাকুল ভাবে ,
আলিঙ্গনের বাসরের মধু চন্দ্রিমা।
বিষাদের গোধূলি তে বিষণ্ণ ত্রিশূলে নিঃশ্বাসের অগোচরে,
আঁধি ঝড়ের চিরন্তন কিমাকরে ডুব দিয়েছে
শ্যামের বাঁশির সুরে মৌনতার কপাট।
জয়োল্লাসে পৈশাচী আঁধিয়ারে চিত্রকল্পের শ্মশান ঘাটে
নিশ্চুপে র স্যুইচবোর্ডে গড়াগড়ি খাচ্ছে,
বৃক্ষ তলে উজান ভাটির ঘাটে,
ঘুণে ধরা অভিলাষের হীরক ঘুড়ির সজীব জমিন।
অভিশপ্ত তীর ভূমির উপকূলে,
আক্ষেপের প্রান্তর থেকে প্রশান্ত রে কুহকিনী র তপ্ত মর্ম স্থলে
খোঁয়াড়ে মূঢ়তা র নিঃসাড়ে,
হারিয়ে গেছে অকাল জীবন তরী।
প্রাণহীন ক্ষিপ্র নিষাদে অনন্তের মায়া লোকে
নিরুদ্বেগ তুষার পাতে,
দীর্ঘশ্বাসের শূন্য প্রহরে ঝাঁপ টি মেরে ঝাঁপিয়ে,
আপন চিত্তে র খেয়ালে
মিশে গেছে কামনা-বাসনার প্রসূন গুলি।
নিরেট শিকল কেটে,
মাখন রঙের সোনালী পুলক পেখম
উনুনের ধোঁয়ায় প্রলাপ মেখে অঙ্গে জড়িয়ে,
পেঁচিয়ে,
কামড়ে ,
লাফিয়ে …
চলে গেছে সুদূর নীলিমার উঠোন জলে।
মরণ প্রতিমা র দেয়ালে,
কঙ্কালে র রক্ত ধারার আঁধারে
ভূগর্ভের সীমান্তে,
অনুরাগের অনুপমের শ্যামল বাগান লীন হয়েছে গভীর অনলে ।