কবিতা, বিরহের কবিতা

নষ্টামির বুলেটে

নিখোঁজ হবো একদিন অস্তমিত নিস্তব্ধ থমথমে ভ্যাবাচ্যাকা
নির্জন ঝর্ণার মাঝে জোয়ার ভাটার করাল ছোবলে নিম্ন ঘোলাজলে
তর্জনে গর্জনে
জনশূন্য বিলীনে
অদূর স্পর্শহীন জমাট বাঁধা স্তুপীকৃত চটচটে চিতপটাং অপদস্থ
প্যাচপেচে মাঠের দূর্বা ঘাসের উপর লেপটে আতঙ্কের বিছানায়
নষ্টামির বুলেটে
মেঘনিবিড় প্রহরে
প্রিয়তমার ঠোঁটের ছলাৎছলাৎ লাল টুকটুকে উষ্ণ অঞ্চলের চরে
কাঙ্ক্ষিত মৌনতায় সিগারেটের ধূমায়িত ভাঙাচোরা বাসভূমে
কষ্টের স্মৃতিতটে
নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে
আকর্ষণের সঙ্গোপনে তরঙ্গের জলযানে নিঝুম মাটির প্রান্তরে
ছিন্নভিন্ন মাতাল ভ্রমণে মধুরিমার রহস্যলোকে অলৌকিক পর্বতে
রৌদ্রজলে বনবাদাড়ে
অগোচরে নদীরতীরে
গভীর অনুতাপে অনন্তের আরাধনায় মন্ত্রধ্বনির অন্তরালে উষ্ণীষ
বিভ্রমে গোধূলিবেলায় মেঘের ডানায় নক্ষত্রের অরণ্যরোদনে
ভয়ঙ্কর দৈত্যের টেলিগ্রাফে
ডাইনীর পৌরপথে
চক্রান্তের চক্রাকারে কালের ফুঁৎকারের টানে উদ্ভ্রান্ত গাঁজলে
জায়নামাজের চুম্বনের আন্ধারে ধ্বংসের পদতলে তীক্ষ্ণ শোণিতে
বিনষ্টের প্রচ্ছন্নে
দুষ্টের জংশনে
আদিম বর্ষণের কর্ষণে উদ্ভাসিত জোনাকির কড়িকাঠে থুবড়ে গলে
ক্রমাগত মিশে যাবো অজানা উড়ন্ত নীলিমার অঙ্গ রাজ্যে দাপাদাপির তৃষ্ণার ছলে ।

কবিতা, বিরহের কবিতা

মহাউল্লাসের উৎসবে

নিথর কঙ্কাল ঘুণে খাবে নিস্তব্ধ নির্জন অন্ধকারে
তল্পিতল্পা ভাবে সর্বনাশের নিদ্রাতুর দেয়াল বেয়ে
নিঝুম গ্রন্থিমূলে
শূন্যতার গম্ভীরে
বেহালার রঙিন সুরে উদাসীন প্রহরে বিলুপ্ত অবেলায়
ঘুমাঙ্কিত প্রতীক্ষাপ্রবণ সুপ্রাচীন মহানদীর কূলের স্রোতে
হৃদয়গ্রাহী আলিঙ্গনে
নির্বাসনের বন্দরে
জলচুম্বন গুপ্তচরে অমাবস্যার নগণ্য লস্কর চক্করে ছায়াহীন
নিরর্থক ঝটকায় সুসমাচারে দর্পণের ভগ্নাংশে অবসন্ন অরণ্যে
পৌরাণিক চিবুতে
মনস্থির জলযানে
বিমূর্ত ভাঙা নৌকায় চড়ে উত্তপ্ত বন্ধ্যা পাহাড় পাড়ি দিবো
অব্যক্ত বাদামি রঙের স্বাদ ভুলে ধুলো ধুঁয়োর ঘ্রাণ ছড়িয়ে
বিফলতার মোহরূপে
আতশবাজির অন্দরে
ছটফট দুয়ারে চঞ্চল মৌনের ভিতরে জলাভূমির মাতাল
হাওয়ার ছবি আঁকে নামহীন স্মৃতির পাতা গুলি থেকে
উলঙ্গতার কপালে
বিপন্ন তিলকে
খোঁয়ারির নীড়ে উল্লসিত রুক্ষ শ্যামা ভ্রূক্ষেপহীন আস্তিনে
স্পর্ধিত মনোজালে অভ্রের প্রাসাদে দুঃস্বপ্নের আক্রোশে
সমীচীন কালক্ষয়ে
লক্ষ্যভেদী দিঘিতে
তন্দ্রাচ্ছন্ন নিঃশ্বাসে পরাক্রান্ত ভাবলোকে সন্ধ্যার আঁধিয়ারে
মহাউল্লাসের উৎসবে সুন্দরীতমার আঁচল ধরে জীবন প্রদীপ যাবে ওপারে।

কবিতা, বিরহের কবিতা

বনবাদাড়ের নগ্ন চৌকিতে

কালের ডিঙায় চড়ে মহাপথের উদ্দেশ্যে ছুটে চলেছি অবিরত
আকণ্ঠ জোয়ারে বিষাক্ত কামনার বাজারে বীভৎস গোরস্থানে
অলীক বাঁশির তানে
মরুচারী নহরের বিস্ময়ে
রাগরাগিণী শিহরণ জাগায় ঝরাপাতা অচিন সপ্তপদী উদ্যানে
প্রৌঢ়ের মরমী নীরব কালো কোলাহল ভূমির মর্চে- পড়া ছিন্ন
বেহালার ভিন্ন মন্দিরে
পৌরাণিক স্বপ্নের নিরুদ্দেশে
বহুকাল ভিড়াক্রান্ত আবীরে দৌড়ে গেছি থরথর শঙ্কিল কারাগারে
জ্বলজ্বলে স্তূপের অদূর ঘাটে মৌনতার স্বেচ্ছা তাণ্ডবে লকলকে ক্রূরে
বিলম্বিত প্রণয়ে জলঝড়ে
কাঁপানো আচরণের আবেগে
নির্বিঘ্নে যন্ত্রপাখি চুম্বনের ঝরাপাতা ছিঁড়ে নিশীথের মেঘমালার লীনে
বনবাদাড়ের নগ্ন চৌকিতে বাসর সাজায় অবয়বহীন কাফনের অস্তিত্বে
মখমল খেয়ালের আড়ালে
নিবিড় দীর্ঘশ্বাসের শিরাপুঞ্জে
নিরুদ্ধ প্রস্রবণে প্রবোধের অলিতে –গলিতে বুনিয়াদের অগ্রসর প্রণয়ে
অসমাপ্ত ঘুট্‌ঘুটে কুহেলিকার আঁধারে প্রসন্নতার গভীর অনুরাগে তুচ্ছতার
ভ্রূকুটির বেসামালের গানে
আকুলের প্রাণে দাগ কাটে
নীরন্ধ্র বাঁশঝাড়ের মূলে চাঁপা কান্নার সুরে হৃৎপিণ্ডের ভূখণ্ডে নিঃসীম নিবাসে
তপ্তজনপথে ঘুঙুর ভাঙার সিম্ফনির আওয়াজ ভেসে মোর হিয়ার কর্ণগহ্বরে
স্তূপ রক্ত ঝরে ঝোপঝাড়ে
প্রবাল প্রবল কটাক্ষ চিতাগ্নিতে
ধুমায়িত পরপারে ভীষণ ক্রোধের ঘণ্টা বাজে বিশাল বটবৃক্ষের পাতার তালে
তালে নিঝুম পাড়াগাঁয়ে সেজেগুজে জীবনপঞ্জি দেখে ছুটে আসে বিস্তীর্ণ মাটির নির্বীজ অতলে।

কবিতা, প্রেমের কবিতা

প্রেমভেজা ঘনবর্ষায়

আশ্বিনের ভরদুপুরে এক পশলা বৃষ্টি নামে ইন্দ্রজালের মোহে
ভিজিয়ে নিয়ে যায় দূর থেকে দূরান্তরে সিক্ত অদৃশ্যের টানে
উদার উঠোনে
বাগানের কার্নিশে
ঘুণেধরা ভিটে বাড়ির মৃত্তিকায় আঁচড়ে পরেছে খয়েরি রঙের
আলপনা স্মৃতি গুলি ভাসে নীরবে জলাবদ্ধ ড্রেনের মধ্যখানে
জীর্ণশীর্ণ অকালে
পড়ন্ত বিকেলে
ঘোলা জলের রাশি মিশে যায় পুকুরের গভীরে অশ্রুবিন্দুর
ন্যায় এঁকে দিয়ে যায় বর্ণিল স্বপ্নিল সুঁই সুতোর রিক্ত প্রেমের
মধুময় বাসর
মিষ্টি সময়ে
মনপবনের পূর্ণিমার আলোড়নে ভরে উঠে সুখময় জীবনের
দীপ্ত প্রদীপ দয়ার্দ্র চুপিসারে চুম্বনের আলিঙ্গনে নিভৃত দেহে
ঊষা জাগে
প্রিয়ার ডাকে
বাদলা দিনে কুঁড়ে ঘরের ছাঁদনাতলায় ফাগুনের আগুন ঝরে
বাড়ন্ত মনের টানে মুষড়ে কাঁপে ঠোঁটের পাতা কামড়ের ফলে
উড়ন্ত প্লাবনে
স্রোতের দিগন্তে
কাদামাখা বেগুনি ফুল ফুটে চিকুরের ডালে ঘ্রাণময় সন্ধ্যেলগ্নে
চোরাকাঁটা নীলাভ আঁচলের আবছা প্রান্তরে উচ্ছল বন্দরে হিম
শিখা জ্বলে
লালসার সাগরে
অনির্বচনীয় আবেগের গাঁথা মালা ধূসর দেয়ালে তুলে রেখেছি
অবক্ষয়ের সঞ্চারিত কলরোলে সূর্যকিরণ আলোয়ে পড়াবো তাঁরে প্রেমভেজা ঘনবর্ষার ক্ষণে।

কবিতা, বিরহের কবিতা

লিবিডো মাঠে

ক্ষণিকের মাতলামি রঙ পেন্সিল জীবনে ফুটফুটে কাঁচের ক্ষিপ্র
বাছা্রিঘর কিনেছি উড়নচণ্ডী হয়ে খেলার ছলে সুকৌশলে
বর্ষাতির শঙ্কিলে
স্নিগ্ধশ্যাম কাজলে
বিতৃষ্ণার মস্তিষ্কে হীরাপ্রতিম ভঙ্গিমায় নিশীর্ণ উর্ণাজালে অভিশাপের
দংশনে সংকেতের টানে ভ্রাম্যমাণ নদীরতীরে গৌরবপ্রদীপ্ত দীপ্তকণ্ঠে
সোনালী বিকেলে
কটমট প্রহরে
বিমর্দিত জর্জরিত নিঃসাড় প্রলয়ে বেপরোয়া বিলীন শিশিরে তিলক
মণিহারে সুদূরপ্রসারী ছিপছিপে কামনার ছায়াচ্ছন্ন পুস্পল ভাসিয়েছি
মালঞ্চের ভুবনে
ছেঁড়াখোঁড়া দিগন্তে
বর্ণিল রঙধনু ভাসে একূলের প্লাবনে ওকূল মোহের তানে বিরহী
স্রোতের নেশার জলে কালচে ভুলের নিদারুণ মায়াবী সাঁকো বেয়ে
কামড়ে ঝাঁপিয়ে
অতল ঝড়ে
পাড়ি দিবো ভ্রান্তিবিলাসে সীমাহীন মহিমাবঞ্চিত লুণ্ঠিত সংকীর্ণ
রঞ্জিত রত্নপুরীর উন্মবন্দরে নিরর্থক নিশ্চুপ শিলীভূত সন্ধ্যাবন্দি
গনগনে প্রবাহে
লিবিডো মাঠে
যৌবনবতী বধুর চিকুরের রেশমি চেলী উড়ে পৌরুষের কম্পমান
আঁধার ডুবা গাঙে গোল্লাছুটের মতো বজ্রপাতে আলিঙ্গনে চুম্বনের
প্রভাবে তুলাদণ্ডে
উতল কিমাকরে
কাদাজল সুড়ঙ্গে সাঁতার কাটে বিশুদ্ধ কায়ায় বিড়বিড় স্বপ্নের মাঝে
উড়াল মারে দৃকপাতহীন ভাবে করুণ সর্বনাশার ডাকে খাপছাড়া অচিননগরে যেতে।