কবিতা, বিরহের কবিতা

নির্ভীক অন্তরালে

স্বর্ণিল কুয়াশার গোধূলি বেলায় বিষাদ ঢেকেছে নিমেষে
চোখের কোণে নগ্নতার ঊষা অঙ্গে মেখে অদৃশ্যের মায়াজালে
স্ফূরণ বিচ্ছুরণে
নিঃসৃত নিঃসরণে
স্মৃতির দেয়ালে স্ফীত কম্পমান বেড়াজালে নির্ঘুম চক্রাকারে
উচ্ছল কাঁচা বাঁশের ঘ্রাণে বিক্ষুব্ধ খাপছাড়া মনোভূমিতে আহ্লাদের
বোঝাপড়া বন্দরে
ঘুণেধরা অন্ধকারে
বিষের বাঁশি বেজে উঠে বিস্ময়ের ঘুরপাকে বেদনার টার্মিনালে
ঢেউয়ের নিবিড় স্রোতে নিপুণ প্রসন্ন অন্তরঙ্গে স্ফুলিঙ্গের বুদ্বুদে
অবিনাশী অশ্রুজলে
অপরাহ্ণে ছোঁয়ালে
গোপন রমণীর লালচে ঠোঁটের ফিসফিস শব্দ আসে দূর কান্তার থেকে
মাতাল রঙের ঢঙের তালে শোকশীর্ণ খয়েরি প্লাবনে অদিগন্ত নগরে
নির্ভীক অন্তরালে
তান্ত্রিক দ্বীপে
চরাচরের সেতু বেয়ে নিঃশঙ্ক দৃঢ়তার সাথে ফুলকি নিদ্রার চাতালে
সঞ্জীবিত পিঞ্জরে হিঁচড়ে চলি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের আস্তানায় তৃষ্ণার্ত হয়ে
হরিদ্রাভ চঞ্চলে
বেখাপ্পা প্রলাপে
বালিচরে ভাসিয়ে ব্যাকুল বামনের ঘাটে ছেঁড়াখোঁড়া বর্ষণপ্রত্যাশী পঞ্জিকা
সত্তাময় বিষাদ নিখাদে জীর্ণ শূন্যতার মানস সমুদ্দুরে নিয়ে যায় সাবলীল
উদ্বেলিত চুম্বনে
অপ্রস্তুত কালসন্ধ্যে
নিয়তির কাঁটাতারে ক্ষিপ্ত আঘাতে ভয়ঙ্কর রক্তচুখে কর্কশ প্রহরে ছারখার করে
কাদাখোঁচা বিপর্যস্ত পালকের ডালে ভ্রষ্ট ঘূর্ণি নাচে উজান উতল নৌকার মাঝে ।

কবিতা, বিরহের কবিতা

সুডৌল জলপরী

সাদা কালো মামুলি জীবন ভাঙাচোরা খাটে বারান্দার পাঁজরে
নিথর হয়ে শুয়ে থাকবে নির্বিকার পুতুলের ন্যায় সংকীর্ণ ধুলোর
মাঝে নিঃশব্দ ভাবে
একঘেয়ে আর্তনাদের স্মৃতি নিয়ে
প্রাণপাখি যাবে উড়ে স্বর্গ বাড়ি আজরাইলের খপ্পরে পরে নিশ্চুপ মনে
কাঁপুনি ফোঁপানি খসখসানি বেড়ে উঠবে দ্যুতিময় শরাব প্রাণ করার
সাথে সাথে ঝুঁকে ঝড়ে
তোলপাড় হবে আবেহায়াতের টানে
প্রশান্তির গালিচায় চড়ে অবসন্ন শূন্য কঙ্কাল ছুটবে যমজ দ্বীপে
উজ্জ্বল রঙের ফিনফিনে কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে মাটির সিক্ত শীতল পাটীতে
রেখে আসবে অনায়াসে
শোকের উৎকণ্ঠার ছলে
নিষ্প্রদীপ গোরস্থানে ঝিঁঝিঁ পোকারা জ্বালবে আলো নিশীথের অগোচরে
বংশীধ্বনি বেজে উঠবে উষ্ণ প্রণয়বাক্যে আচানক সজল চোখে তাকিয়ে
থাকবো মেঠো নির্জন
পুষ্পরেণু দূরান্তরের প্রান্তরে
তাচ্ছিল্য ভরে হৃদপিণ্ডের চঞ্চুতে থরথর বিভীষিকার দ্বিপ্রহরের সাথে
আলিঙ্গন করে সুষমা সুচারু ভঙ্গিমায় বিষম রূপান্তরিত দুঃস্বপ্নাকীর্ণ
ভূতলঘাটে প্রসারিত বায়ুস্তরে
রেশমি পাখা মেলে
শ্যামল নীল দরিয়ায় উড়াল দিবো অসংকোচ প্রফুল্লে ঘাতকের বন্দর
ছেড়ে অন্তহীন প্রকৃতির দ্বীপপুঞ্জে সুডৌল জলপরী নর্তকীদের নেশায়
হানবে আঘাত চারিপাশে
ভাঙবে ভেলা সুখের তানে
কাটবে বেলা থরোথরো গভীর অনশনে লুণ্ঠিত অঞ্চলে নরকলোকের
ভক্ষকে নিঃসঙ্গের অস্তরাগের অন্তর্লীনে থাকবো একা ঘেরাটোপের বালিয়াড়িতে।

কবিতা, বিরহের কবিতা

যৌবনে যুবতীর উঠোনে

ফেরী ঘাটে স্রেফ বসে আছি অস্থির অজ্ঞাতে সফেদ রঙের আলখাল্লা
অঙ্গে জড়িয়ে অদূর গাঁয়ে যাবো বলে লহমার চিরন্তন স্তম্ভিত উপকূল ঘেঁষে
ডিঙিয়ে নদীরতীরে
অভিশপ্ত নগরী পেরিয়ে
দিগন্তের স্মিত ধোঁয়ার অন্তরালে দীপ্র ধূসর জলে ঘুণেধরা ভেলায় চড়ে
ক্ষণকালের স্বপ্নিল দ্বি-চক্রযানে উড়ে যাবো সিঁড়ি বেয়ে মাতাল শহরে
তুষারিত প্রলাপের অনুরাগে
অলৌকিক উপত্যকার লিরিকে
কালের তিন টুকরা পালক লাগিয়ে কায়ার উপরি ভাগে ঠেলা গাড়ি এয়ারক্রাফটে
শুয়ে ঘুমন্তপুরির দেশে পাড়ি জমাবো সাধের জীবন ফেলে ছিঁড়ে যাদুর মোহে
নিঃশ্বাসের চৌচির দ্রোহে
বিমূঢ় মন্ত্রতন্ত্রের জালে
অবান্তর বিমর্ষ ছায়াচ্ছন্ন লগ্নে ক্ষুব্ধ নিসর্গ অশ্রুপাত গুলি ঝরে পরে চিবুকের নীড়ে
পোষমানা স্বপ্নচারী ক্ষয়িষ্ণু উৎপাতের ফলে ঝাঁঝালো রৌদ্রঝলসিত কাঠফাটা তানপুরাতে
তৃষ্ণার্ত অন্ধের বাঁশি বাজে
আক্ষেপের অরণ্যের ঘাটে
খায়েসের জমিনে খেলাচ্ছলে শোভাময় যৌবনে যুবতীর উঠোনে ঘুড়ি উড়িয়েছি
ঋতুর বঞ্চনা প্রতারণার নেশার নীল চোখে খোঁপায় দিয়েছি দূর্বা ফুলের মালা
গোপনে একাকী সঙ্গোপনে
নীলিমার পাতালে গুপ্তচরে
সাংকেতিক কম্পমান অন্ধকারে গৌণ শিল্পীর সুর আসে চিলেকোঠার মহল্লার
অলিগলি থেকে কে যেনো শুনিয়ে গেলো বড়ুই পাতা গরম জলে গোসল দিবে তোমায়
নিঃসাড় অসাড়ে নিস্তব্ধে
প্রস্তরখণ্ডের বেগানা ভিটেতে
বন্ধনমালার অস্তরাগে ছিন্নভিন্ন আলো জ্বলে সমৃদ্ধ মৃত্তিকার কুঠিরে ঘৃণার আরাধনায়
সাড়ে তিন ভুজ বাক্সটি নিয়ে যাবে অনন্তপুরীর খেয়াঘাটের শিহরিত মন্থর প্রান্তরে।

কবিতা, বিরহের কবিতা

শূন্য নদীর দেশে

ওপারে যাবে খাঁচার জমিন চুপিসারে বিস্ফোরিত নিভৃতে ধুকধুকে
তেপান্তরের পুলসিরাত ডিঙিয়ে বন্দর শহরের ঘাটের প্রদেশে
কাল্ভদ্রের টানে
নীল দংশনে
গোধূলিপ্রতিম রজনীগন্ধাবনে সুড়ঙ্গের করিডোরে টনক নড়বে
বিচ্ছূরিত কালদীর্ণ গর্জনশীল টালমাটাল হারমোনিয়ামের সুরে
লুপ্ত মৃত্তিকায়
সিক্ত ফটকে
মহাযাত্রার মহোৎসব বেজে উঠবে ক্ষণিকের মধ্যে অলীকমোহের
প্রভাবে ঢেকে যাবে অগ্নিঝড় আবরণ দিয়ে বেদনার্ত নিস্তব্ধতার মালা
গেঁথে বাস্পাকূলে
নিষ্ক্রিয় পুষ্পসারে
নীরন্ধ্র প্রান্তরে বিষবৃক্ষের জ্যোতিশ্চক্রে মহাশূন্যের গর্তে নিরুপায় দেহে
তেষ্টার জলে দেয়ালের ঝুলন্ত প্রখরে বিলুপ্ত কোলাহলে জরাগ্রস্ত নীড়ে
ধূলিকণার টানে
আড়ালের বালিচরে
নির্বাসিত ফুটপাতে অতিশয় স্বপ্নাক্ষর ভেসে বেড়ায় অলক্ষ্যের ঝিলিকে
দ্রাক্ষাপুঞ্জের নিঙড়ানো সিলিন্ডারে সিল্কমসৃণ স্মৃতি গুলি সচকিত সানন্দে
ভাবান্তরে উড়ে
খেলারছলে দোলাচলে
ঋতুর তুষারপাতে কুয়াশার প্রলম্বিত ধ্বনির উৎসুক অভিমান মুখর অক্ষরে
পদচ্ছাপের দীপাবলী তুচ্ছতার উর্ণাজালের ধোঁয়াবিস্ট চুম্বনে কফিনের
ভাস্কর্য আঁকে
স্ফুরিত আলোড়নে
কাঁধে তুলে নিয়ে চলবে চারবেহারা শূন্য নদীর দেশে নিঝুম নিষ্প্রদীপ
জ্বালবে ভুজের মুঠোয় মুঠোয় তুমুল বিলাপের কলিং বেলের ব্যথিত আওয়াজে ।

কবিতা, বিরহের কবিতা

বিস্মিত স্পর্শ ছোঁয়ে

পুলকের বসত ঘরে জীবনভেলা ভাসিয়ে দিয়েছি
বিষণ্ণ আশ্বিনের শীতল বৃষ্টির সবুজ রঙের পল্লবে
মধুস্রোতে সমুদ্দুরের টানে
ঝিনুকের মোহে ঈর্ষাতুর হয়ে
মসৃণ হৃদয়ে অচুম্বিত অবয়বে ছুটে চলেছি একাকী
তাচ্ছিল্ল্যভরে নির্ঘুম অন্তরালে গ্রীবার মলিন অনলে
অসহ্যের সিঁড়ি বেয়ে
অনুচ্চার প্রেতায়িত অভ্যন্তরে
বিপুল আঁধারে সগৌরবে বীণার জলরেখার তানে
বিপন্ন ঝড়ক্লান্ত নিশ্চুপ দৃষ্টির অগোচরে অজান্তে
এঁটোকাঁটাজীবীর ন্যায় ভগ্নস্তূপে
কলঙ্কিত ভাঙ্গাচোরা মোড়ে
জীবন্ত উদ্দিষ্ট আলুলায়িত অঙ্গবাসে ক্রোধে ধিক্কারে
নির্লজ্জের অস্তিত্বে বঞ্চিত আস্ফালন পরেছে কৃষ্ণপক্ষে
কালবেলায় কুটিল শুয়োরে
নাগর বাঁধে ডাগরে
প্রেমের লেলিহানে মালা সম্ভ্রম স্বর্ণাভ ললনার আঁচলে
গেঁথেছে সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বেলে পুষ্পবৃষ্টির মূলে অকারণে
উদাসীন সুকোমল মনে
বিস্মিত স্পর্শ ছোঁয়ে
মধ্যাহ্নের শূন্যতাকে ধু – ধু স্বপ্নের ক্রমাগত ডাকঘরে
অসমাপ্ত জীবনী ডেকে যায় অবিরত নড়বড়ে মৃত্তিকার
বেঘোরে মাংসপেশিতে এলেবেলে
প্রস্থানের উন্মাদের ছলে
ডানাছাঁটা আগাগোড়া নীলকাশের নীচে নিরন্তর ভাবনার
ঘুড়ি উড়িয়েছি ক্ষত লুব্ধ আকর্ষণের কদাকর ছায়ারূপে।