কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, প্রকৃতির কবিতা

ঘুমন্তপুরীর সাইনবোর্ডের সমাচারে

জীবন নদীর কূলে ঢেউ ভাঙার আহাজারি শুনি ভাদ্দুরের ভর দুপুরে
ক্ষীয়মাণ স্বপ্নের বেড়াজালে ঘুরে বেড়ানো সাদা নীল দোলাচলে
ঘুমন্তপুরীর সাইনবোর্ডের সমাচারে
নিস্তব্ধ রাত্তিরে বেদনার খয়েরি রঙের চাদর উড়ে
ফেনিল নীরব সীমানার প্রান্তরে
কৃষ্ণ কালো পাখি ঢেকে দিয়ে যায়
সোনায় মোড়ানো পালকির খোলা জমিনে মৃত্যুযান সন্তরণে
জোয়ার ভাটার টানে মনের সৌরভ গাঙে
সুরের মূর্ছনার সোরগোল বেজে উঠে
অচল প্রেমের গভীর অনুরাগে
অমীমাংসিত পথে পালাবার শহর খোঁজে অবলুপ্ত মাধুরীর লালসার নীড়ে
সিঁড়ি বেয়ে বাঁশি বাজিয়ে সমাধির স্বপ্নিল কারাগারে
জ্যোৎস্নার আলোছায়া অঙ্গে মেখে পাড়ি দেয় শিথিল পাড়াগাঁয়ে
মুঠোয় ভরে শেফালির পাতা কুড়িয়ে বিমূর্ত ভুবন ছেড়ে
ভোরের শিশির ভেজা শান্ত জলরাশি মেঘাচ্ছন্ন তুষারজলে ফেলে
ভাদ্রের অন্তিম বেলায় পাড়ি জমায় বিলীন নগরে ।

কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, প্রকৃতির কবিতা

ধুকপুকুনি স্তূপের কারাগারে

ভাদ্রের রক্তিম আকাশের মেঘ গুলি জমে হৃদির কঞ্চির ঘরে
জল তরঙ্গের ফেনা তুলেছে ধূসর চক্রবালে কাশবনের আড়ালে
ভোরের ঊষার মাঝে ফুল ফুটে
বৃষ্টির রিমঝিম সুখের তানে
প্রজাপতির লাল নীল গালিচার ঝাপটা – ঝাপটির আওয়াজে
মন উড়ে চলে গভীর ভাবনার খুনসুটির কুঁড়ে ঘরে
স্মৃতির দেয়ালে আটকে আছে
ব্যথার পাহাড় নিঝুম রাতের আঁধারে
নিটোল জীবন হারিয়ে গেছে
ভাদ্রের ভরা পূর্ণিমার ছিন্ন চূর্ণ পদস্পর্শে
পুষ্পাকূলে শূন্যতার উদ্যানে খুঁজি ফিরি রঙিন সৌরভ যৌবনের গোধূলির লক্ষ্যে
মাকড়সার জালে মায়াজালে বিস্তীর্ণ দিগন্তের অমাবস্যার ভাবনার কালেভদ্রে
ভাদ্দুরের তুফানে
উদাস জমিনে
তৃষ্ণার চরাচরে ধুকপুকুনি স্তূপের কারাগারে
মিশে গেছি
শ্যামল মাটির নান্দনিক নিঃসঙ্গের পাঁজর ঘেঁষে নীরবতার মুগ্ধাবেশে ।

কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, বিরহের কবিতা

নষ্টা ভ্রষ্টা অন্ধকারে

মন মাঝি শুকনো পাতার ছলে পদ্ম পাতার জলে ভেসে যাবে,
দেহ ছিঁড়া খাতা ছিঁড়ে আকাশ গাঙে।
ফেনিল তৃষ্ণার জল ফেলে সীমাহীন প্রস্রবণ অন্তরালে রেখে ,
হৃৎস্পন্দনের মৌনতা ভেঙে উড়াল দিবে
অন্তরীক্ষ ছাড়িয়ে নির্জন স্বর্গ ভূমিতে।
বৈচিত্র্য ময় স্বপ্নপ্রসূ বজ্রমুষ্টি বর্ণিল মাঠের দৃশ্যাবলী;
ইন্দ্রজালের হাতছানির বিষ্ঠা ছুঁড়ে,
হাস্যরোলের তাম্রলিপি ডিঙিয়ে নিংড়িয়ে
ওপারে পাড়ি দিব শূন্য ভুজে।
নিশ্বাসের বাইসাইকেলের সুর বাজিয়ে,
দীর্ঘশ্বাসের রঙ মাখিয়ে খড়কুটো র পরাগ মেখে,
দিনলিপি র কর্মসূচি আহ্লাদের সরাইখানা অধ্যুষিত চৌরাস্তা বলি দিয়ে
যাবো চলে স্বর্গোদ্যানে।
আষাঢ়ী চন্দ্রিমা র অন্তরঙ্গ চুম্বন কালেভদ্রে স গৌরবের প্রসন্ন দ্যুতিময়য় স্মৃতি ছেড়ে ,
একাকী ধ্যানে কায়ক্লেশে শ্রাবণ ঘন দিনে ফাঁকি দিয়ে
যাবো অন্তিম অম্বরে জীর্ণ দহনে।
পুণ্যস্নান সেরে পড়ন্ত বিকেল বেলা হাঁটি হাঁটি নিগূঢ় নিশীথে
জন স্রোতের কোলাহল ফেলে,
রহস্যের সবুজ খয়েরি টিকিট কেটে,
নিঃশব্দ তার উন্মত্ততা ;
উপড়ে ,
তলিয়ে ,
যাচ্ছি …
প্রকট সুবিশাল আদিগন্তে,
ক্রোধের ঝাঁটা কাঁটা বুকের পাঁজরে নিয়ে।
বসন্ত কালের বাগানে,
প্রস্ফুটিত কামিনী রক্তচক্ষু চাতক পাখির ডাক ;
নক্ষত্রের রহস্য পুরী মৃত্যু বর্ষী সিঁড়ির ধাপ বেয়ে ,
ভূমিহীন ঝোপঝাড় সন্ধ্যার অলকা পুরী রূপান্তরিত রৌদ্রাক্রান্ত মাড়িয়ে
হেমন্তের নির্বাসিত অঙ্কুরে নষ্টা ভ্রষ্টা অন্ধকারে,
আজরাইলের হাতে গিয়ে পরবো অবলীলাক্রমে।
যথারীতি মধুর রাগিণী র টানে,
কামার্ত আবেগ কম্পিত সজীব জাগ্রত অন্তলীনে অঞ্জলি ভরে নিশ্চুপ মনে।

কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, বিরহের কবিতা, রূপক কবিতা

অকাল জীবন তরী

ছেঁড়াখোঁড়া অনুভবের স্মৃতি গুলি ফাঁকি দিয়েছে,
দীর্ণ ক্রোধের খেয়ালী পনার ছলে।
কিয়দ্দূরে নিষ্ফল ভাবনার আকাশে ভাসছে,
ধূলোবালি উড়ছে ,
ধমনীর নীল অবিন্যস্ত তৃষিতে।
রোদ্দুরে জমেছে সাদা কালো দুঃখের স্বপ্নিল;
নিরুদ্দেশে ভেসে গেছে ,
নিঃসঙ্গতার ধূসর কচি পাপড়ি যুগল।
অদৃশ্যের বেড়াজালে আটকে গেছে,
গোলক ধাঁধার বহুরূপী মধুর জ্যোৎস্নার প্রভা;
অস্তাচলে,
নিম্ন জলে,
দোলাচলে
মিশে গেছে ,
ব্যাকুল ভাবে ,
আলিঙ্গনের বাসরের মধু চন্দ্রিমা।
বিষাদের গোধূলি তে বিষণ্ণ ত্রিশূলে নিঃশ্বাসের অগোচরে,
আঁধি ঝড়ের চিরন্তন কিমাকরে ডুব দিয়েছে
শ্যামের বাঁশির সুরে মৌনতার কপাট।
জয়োল্লাসে পৈশাচী আঁধিয়ারে চিত্রকল্পের শ্মশান ঘাটে
নিশ্চুপে র স্যুইচবোর্ডে গড়াগড়ি খাচ্ছে,
বৃক্ষ তলে উজান ভাটির ঘাটে,
ঘুণে ধরা অভিলাষের হীরক ঘুড়ির সজীব জমিন।
অভিশপ্ত তীর ভূমির উপকূলে,
আক্ষেপের প্রান্তর থেকে প্রশান্ত রে কুহকিনী র তপ্ত মর্ম স্থলে
খোঁয়াড়ে মূঢ়তা র নিঃসাড়ে,
হারিয়ে গেছে অকাল জীবন তরী।
প্রাণহীন ক্ষিপ্র নিষাদে অনন্তের মায়া লোকে
নিরুদ্বেগ তুষার পাতে,
দীর্ঘশ্বাসের শূন্য প্রহরে ঝাঁপ টি মেরে ঝাঁপিয়ে,
আপন চিত্তে র খেয়ালে
মিশে গেছে কামনা-বাসনার প্রসূন গুলি।
নিরেট শিকল কেটে,
মাখন রঙের সোনালী পুলক পেখম
উনুনের ধোঁয়ায় প্রলাপ মেখে অঙ্গে জড়িয়ে,
পেঁচিয়ে,
কামড়ে ,
লাফিয়ে …
চলে গেছে সুদূর নীলিমার উঠোন জলে।
মরণ প্রতিমা র দেয়ালে,
কঙ্কালে র রক্ত ধারার আঁধারে
ভূগর্ভের সীমান্তে,
অনুরাগের অনুপমের শ্যামল বাগান লীন হয়েছে গভীর অনলে ।

কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, বিরহের কবিতা

মহা কালের পথ ধরে

বর্ণিল জীবনের রঙিন ফানুস উড়িয়ে,
হেঁটে হেঁটে চলেছি  …
মহা কালের পথ ধরে ,
একটু আধটু দুঃস্বপ্নের দোলাচল ভেঙে।
ভালোবাসার খেলাঘর
যৌবনের নিকষ হাটবাজার পেরিয়ে ,
মহাযাত্রা র আগ্নেয়গিরির;
রঙিন গোধূলির সিঁড়ি বেয়ে চলছি নিরন্তর …।
ব্যাকুলতা র হালখাতা
সোনালী জল রঙের কষ্টের নীল দর্পণ ছিঁড়ে, ছেড়ে,
বাউণ্ডুলির বিবর্ণ পৌঢ়ত্বে ,
জোয়ার ভাটার তিক্ত সিক্ত গভীরে
আছড়ে পরছি দ্ব্যর্থক ভাবে।
শ্রাবণের স্নিগ্ধ মেঘ বসন্তের
কোমল হিম -শীতল অনিল প্রবাহ ফেলে,
অসীম কালের নীল কুঠিরে
নোনা দরিয়ার দেয়াল ছাড়িয়ে ছিঁড়ে ,
ছুটে চলেছি মহা মিলনের বদ্ধ ভূমিতে।
সন্ধ্যার সাঁঝ জ্যোৎস্নার পুষ্প ময় হাসি
দিগন্ত মাঠের কাশফুলের নরম ছোঁয়া রেখে, ফেলে,
মহা প্রাচীরের নিবিষ্ট রক্ত বর্ণের ক্যানভাসে,
সর্বগ্রাসী অতল স্পর্শী র উপকূলে ভেসে যাচ্ছি…।।
আশী বিষের ব্যথা নিয়ে।
রূপালি বাসরঘর;
সুখের দিনের বাদলা প্রলোভন-দায়ক স্মৃতি
নিবিড় প্রেমের ছিন্ন গাঁথা মালা নিয়ে,
অস্ত পাড়ের ,
অন্তিম গাঙে র ,
বিলীন নীলের তীরে ,
ছায়া মূর্তির আঁধিয়ারের লক্ষ্য সীমায় ছুটে চলেছি…
নিথর কায়ার ক্ষ্যাপা জমিন নিয়ে ।
যাচ্ছি আমি মৌনতার অনাসৃষ্টি ফেলে,
কালবৈশাখীর ঝড়ের তাণ্ডবে র কূল হীন নিকৃষ্ট উদার তলপিতলপার ভূ গর্ভে ।