কবিতা, প্রেমের কবিতা

ভালোবাসার বাহুডোরে

ইচ্ছে করে তোর
সপ্তপদী সুমন্ত – ঘুমন্ত বিজন কৈশোরের উদ্যানে অগোচরে ঘুরে আসি
ইচ্ছে জাগে তোর স্মৃতির জাল ছিঁড়ে
উচ্ছল বিলম্বিত রূপালি শহরের ঘাটে ঘর বাঁধি
ইচ্ছে করে তোর বর্ষার দেয়ালে
নিবিড় প্রেমের সিম্ফনির আলপনার রঙ তুলির জলছবি আঁকি
ইচ্ছে জাগে তোর প্রসন্ন গোধূলি বেলায় প্রাণবন্ত যৌবন নদীটিকে
ভাসিয়ে দেই নিপুণ নিশ্চুপ শূন্যতার ভাস্করে
ইচ্ছে আছে তোকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাসের সীলমোহর মেরে
হৃদস্পন্দনের প্রান্তর পেরিয়ে বালিয়াড়িতে সংসার সাজাবো
ইচ্ছে করে তোর মনের কম্পমান ক্ষ্যাপাটে
চরাচরে,
দোলাচলে,
ভোরের ক্ষিপ্র শিশির ভেজা পাখি হতে
ইচ্ছে করে তোর অরণ্যের ভগ্নাংশে
আলিঙ্গনের নৃত্যের পুষ্পিত প্রণয় – বিলাসের এক পশলা চিমটি কাটি
ইচ্ছে করে তোর ঘ্রাণময় কাঁপুনি – ঝাঁকুনি
এলোমেলো ছায়াচ্ছন্ন দৃশ্যান্তর চিকুরে
নিষিদ্ধ মন্ত্রের পায়চারির ফটোগ্রাফ করি
ইচ্ছে করে তোর সজীবতার লাল নীল আকাশের নোনা ঘাটে
নোঙর ফেলি নির্ভুল রঞ্জিত একরাশ গোলকধাঁধার মুগ্ধাবেশে
ইচ্ছে করে তোর নিষ্প্রভ ফ্যাকাশে
স্পর্শ কাঁটাময় অমাবস্যার আপাদমস্তক সমুন্নত অনশনে
অনিমেষে সুতীক্ষ্ণ নিঃশ্বাস ফেলতে
ইচ্ছে করে তোর,
স্বপ্নঝিলিক স্বর্ণস্পর্শাতীত ডুবুরী লোফালুফি চোখের চাহনিতে
ফাগুনের বৃষ্টি নামাই টালমাটাল হয়ে
ইচ্ছে জাগে তোর,
আগ্রাসী- মহাগ্রাসী ছুঁচোলো সন্ধিগ্ধ পাঁজরের মঞ্চে
প্রজাপতির করতলে,
বিরামহীন সুরের ঝংকারের রিনিঝিনি তুলি ভালোবাসার বাহুডোরে।

কবিতা, প্রেমের কবিতা, বিরহের কবিতা

ভাবনার আকাশ

কত কাল ধরে দেখি না তোমার সুশীতল মুখ
কত দিন ধরে দখিনা তোমার মৃদু হাসি
কত দিন হলো হয় না দেখা বারান্দার কার্নিশে
কত রাত দেখি না উঠোনের কর্নারে
কত দিন দেখি না চিরচেনা সেই কবরস্থান গলির মোড়ে
কত দিন ধরে দেখি না স্নিগ্ধ মায়াভরা চোখ
কত দিন দেখি না বৃষ্টি ভেজা উষ্ণ আঁচল
কত দিন ধরে হয়না কথা তোমার সনে পূর্ণিমার রাত্তিরে
সেই কবে কথা হয়ে ছিল মনে নেই
তবে মনে আছে
তুমি তোমার বাবার সাথে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে
যাচ্ছিলে তোমাদের গ্রামের বাড়ি
ঝির ঝির শ্রাবণের বাতাস বয়ে যাচ্ছিলো
তোমার চুলের প্রান্ত সীমানা দিয়ে
ওই মুহূর্তে ফোন দিয়ে ছিলাম
আমি গভীর ভাবনার আকাশ নিয়ে
কত কথা বলে ছিলে হৃদয়ের চৌকাঠ থেকে
বেশ কয়েক দিন যাবত মনটা তোমার স্মৃতি গুলি নিয়ে খেলা করচ্ছে
আজ সাহস করে তোমায় নিয়ে লিখতে বসে গেলাম
জানি না তুমি কোথায় আছো কেমন আছো
তবে তোমাদের বাড়ির আঙিনা থেকে বেশ কয়েক বার ফিরে এসেছি
অনেক বেদনার পাহাড় নিয়ে
ভেবে ছিলাম তোমায় দেখতে পাবো
কিন্তু দেখা হয়নি !
তবে তুমি প্রতিদিন যেই রাস্তা দিয়ে ইউনিভার্সিটিতে যেতে
আমি সেই রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকি
রোজ সকালে ও বিকেলে …
তোমার কথা আমায় ব্যাপক ভাবে কাঁদায়
শুধু দেখবো বলে তোমার সেই কালো চোখের পাপড়ি গুলি
কত দিন হয়ে গেলো দেখি না তোমার মায়াবতী মুখ ।

কবিতা, প্রকৃতির কবিতা, প্রেমের কবিতা

ঋতুর সঙ্গম স্থলে

ভরা ভাদ্দুরে গভীর রাত্তিরে ঘন অন্ধকারে
বসে আছি,
তিতাসের পাড়ে দেহতরী নিয়ে
আঁজলা আজলি ভরে চোখের অনলে
আকাশের দিকে তাকিয়ে
দেখি তীব্র মেঘ জমে আছে
ভীষণ ভাবে,
শ্মশান ঘাটের মাথার উপরে নিস্তব্ধ মনে
স্পর্শের জালবুনে,
অনন্তপুরের স্নিগ্ধ মাঠের প্রান্তর ঘেঁষে
অবিরল গাছের পাতার নীড়ে
রৌদ্রবিন্দুর ঝাপসায় মাছরাঙা উড়ে চলে
সমুদ্দুরের নীরব জলতরঙ্গ ছুঁয়ে
শ্যামল গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে
জয়পুরের ঘাট পেরিয়ে …
ছুটে যায় সনির্বন্ধ কাকজ্যোৎস্না নগরীর শতাব্দীর নিসর্গের আঁধিয়ারে
মনের ভগ্ন মন্দিরে,
নাড়া দেয় শেষ বেলার উদাস দুপুরে
ভদ্রার অশান্ত বাতাসের নির্গলিত ক্লেদরক্তের টানে
উল্লোল শ্যামা গানের তালে,
নীল রঙের নীলিমার প্রমত্ত অনিন্দ্যের স্বপ্নের ঘরে
প্রেম নিবেদন করি ঋতুর সঙ্গম স্থলে মুগ্ধতার সমুজ্জ্বলে ।

কবিতা, প্রেমের কবিতা, রূপক কবিতা

ভাদ্দুরের গহীন নিশিতে

ভদ্রার পূর্ণিমার চাঁদ গভীর রাত্তিরে ডেকে বলে আমায়
এই শুনো ঘুমিয়ে আছো নাকি
তখনো আমার ঘুম ভাঙেনি
একটু পর আমি ঘুম থেকে উঠে সুনীল আকাশের দিকে
তাকিয়ে দেখি তারা গুলি এলোমেলো ভাবে খেলা করছে
জোনাকি পোকার সাথে
হঠাৎ বাঁশঝাড়ের দিকে
একটু নজর করে দেখতে পেলাম যে মায়াভরা জ্যোৎস্না
ভাসছে – উড়ছে হোমরাচোমরা দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কঞ্চির ডগায়
অবাক হয়ে আমি দেখতে লাগলাম
কিছুক্ষণ পর চুপচাপ শুয়ে পড়ি নিজ বিছানায়
আবার একটু পরে শুনতে পাই সেই করুণ সুরের ডাক
কই তুমি ঘুমিয়ে গেলে !
আমি তোমার জানালার কার্নিশে
দেখো আমি তোমার জন্যে কত কিছু নিয়ে এসেছি
নিবে !
এক আঁচল ভরা সুখের নদী
খুনসুটির আলতো ছোঁয়া
এক পশলা স্বপ্নের জালবুনা আলপনা !
হে সাথী উঠে দেখো …
কেমন সৌন্দর্যের লীলাভূমির বাসর সাজিয়েছি ভাদ্দুরের গহীন নিশিতে ।

কবিতা, ধর্মীয় কবিতা, প্রেমের কবিতা

বাসন্তী গাঁয়ের উদাস দুপুরে

খয়েরি রঙের ভগ্ন নীড়ে ভরা ভাদ্দুরে পূজার অর্ঘ্য নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছি,
মন্দিরের চৌকাঠ ঘেঁষে ভাবলেশহীন স্বপ্নের জালবুনে
নিষিদ্ধ ঝর্ণার সঙ্গম স্থলে
প্রতিবিম্বের চিরন্তন অলীক মোহের নীল দর্পণে
পাবো বলে তোমার দু চরণ অভিলাষের অন্তরালে
ধুরন্ধর হরিহরে ফণীমনসার উদগ্রীব মর্মমূলে
বিবাগী বিস্তার অস্তরাগে
চেতনার অভ্যন্তরে তছনছ পথরেখার স্বতন্ত্র বাগান বিলাসে
জলকণার সমুদ্রের তলদেশে
স্বর্গগঙ্গার শূন্য বেদনায় নিঃশ্বাসের অনুভব দিগন্তের দ্বিধাহীন
গহীন উৎস ভূমির ঝলকানি অস্তাগামী ধূলিঝড়ের সমুদয়ে
বাসন্তী গাঁয়ের উদাস দুপুরে
স্পন্দিত গোপন স্রোতের দৃশ্য সঞ্চারী লিরিক স্কোয়ারে
রুদ্র নিষ্পিষ্ট স্বেদসিক্ত জনশূন্যতার কম্পমান নির্জন শোক শহরে
নৈরাশ্যের দঙ্গলে জঙ্গলে
দিকচিহ্নহীন ধোঁয়াটে দুলুনি প্রবণ অভিশাপে
মৃত্যুপুরী দংশনে,
জলকন্যার জংশনে,
পাশাণপুরীর নিশাচরের ,
নিঃসীম নিঃসঙ্গ পূর্ণিমার ভ্রুকুটি দ্বিপ্রহরে
নিদ্রাচ্ছন্ন বিপন্ন দগদগে
ভাসমান আকাশের আকর্ষণের হৈমন্তী দীর্ণ প্রভার প্রলাপের
চমকিত রোদ্দুরের ঘোলাটে,
দেখবো বলে তোমার দু নয়নের জ্যোতি
পাবো বলে তোমার ক্ষিপ্র তীক্ষ্ণ পথের ধূলি।