কবিতা, বিবিধ কবিতা, রূপক কবিতা

ছিঁড়া প্যাঁচা

বিষাদের সংবর্ধনা শোণিত নিঃশ্বাসের শিহরণে বাজে
স্বপ্নলোকের মগজে
রঙিন বেহালার সুরধ্বনি ভেসে আসে
উন্মোচিত অভিমানের উদাসীন খরস্রোত থেকে।
অন্তরঙ্গ প্রেমের হোলি খেলা গুলি
নির্বাসনে গেছে আমায় ফেলে ভবের পারাবারে
নীল চোখে অসংকোচ মনে তাকিয়ে আছি
ধ্বংসস্তূপের ঘাপটিমারা উসখুস জীর্ণ শূন্য পল্লবে।
সঞ্জীবিত দেহে
অবান্তর সিঁড়ি বেয়ে
স্বর্গের শিশিরে উচ্চ শিখরে উঠে যাই আপন সুখে
জনশূন্য মৃত্তিকার মেঠো পথ ধরে
ভাদ্দুরের শীর্ণ দুপুরের বৃষ্টির ন্যায় উড়ে চলি গতিহীন পাড়ে।
অলকানন্দা পরে আছে
সাদা খাতার ছিঁড়া প্যাঁচা শিকলের ফোয়ারা চিত্তের চৌকাঠে
চৈতন্যের দোলাচলে
লিরিকের আওয়াজ আসে
নিষিদ্ধ চোরাবালি থেকে কম্পিত কফিনের পাদদেশ হতে।
কীসের অস্তাচলে
কীসের নেশার জালে
মালাগাঁথি আপন ভুজে
বসন্তের বকুল তলায় বসে
নিঝুম বাঁশির সুর তুলি
বীরোচিত দর্পণে বিদূষক সত্তার টানে পরদেশী বন্ধুর জন্যে।

কবিতা, বিবিধ কবিতা

কচু বনের কালাচাঁদ

চ্যারিটি ফার্ম ভেবে আড্ডায় মেতে ছিলে
আমার আঙিনায় রাত্রির দুপুরে ।
ঝোপঝাড় বানিয়ে ফিরে গেছো দূর থেকে দূরে
জরাজীর্ণ জুয়াড়ি জ্বলন্ত প্রদীপ সৃষ্টির ছলে।
ট্র্যাডিশন রক্ষা হবে তোমার তাই অবহেলায়
কিম্ভূতকিমাকার লোক বলে চলে গেলে ।

তুমি তো আমার আকাশ কে কেতাদুরস্ত করেছো
এখন কিছু বললে ই ; বলো কচু বনের কালাচাঁদ ।
আমার অতি সখের বাগান কে পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে
অম্বরে পাঠিয়েছ ,আমায় পাঠিয়েছ কালাপানির পারে ।
আসলে তুমি আমায় ভালোবাস না, ছাই বাস!
যদি বাসতে তবে ;
অধীর আগ্রহ নিয়ে আমার কড়ি কপালে ছুটে আসতে ।

কুঁজড়োপনা মন নিয়ে ঘর বাঁধা যায় না
যদি বাঁধে তাহলে শুনতে হবে খেউর গাওয়া খাম কাজ ।
কংস মামার সংসার করার দরকার নাই
সহজ স্বচ্ছ নিবিড় প্রেমের ফসল ফলাতে পারলে আইস ।
তা-না হলে খিচুড়ি পাকানোর কোন মানে নেই ।
আমি না-হয় খাবি খাওয়া করে অযামিনি পাড়ি দিব
একা একা নিষ্প্রাণ দেহে ।

কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, বিবিধ কবিতা

ওরে গণ্ডূষ !গোঁফ ছাঁটাই কর

বউ একদিন রেগে গিয়ে বলে, কি বাল,ছাল লিখো
এই সব দিয়ে আমার সংসার
চলবে না।নুন আনতে পান্তা ফুরোয় ,আবার কবিতা লিখে!
কি আমার ধঞ্চে কবি রে !গচ্চা গচ্চির শেষ নেই ।
বাবা বলে,পাগলামি ছাগ্লামি
বাদ দেয় বাপ, ওই সব দিয়ে
কিছু ই হবে না।

বরং গরুর খামারে যাও গিয়ে ..
ক্ষেত থেকে ঘাস কেটে নিয়ে আসো,
তা ও ভালো হবে ।
বড় ভাই বলে, আজ কাল কি সব লিখো !
ধান্দা বাজি বাদ দিয়ে কাজ কর্মে
মনোযোগ দাও ।
যতসব গোঁজার কাড়বার
খোঁয়াড়ের উঁনপাঁজরের কচুপোড়া,
খসখসে খ্যাচাখেচি স্বভাব দূর কর ।

মা বলে, খোকা ওইসব কি বলে তোর
বাপ,আমি তো,তোর মা তাই না!
আমি বলি কি আঁকুপাঁকু না করে
আদা জল খেয়ে লেগে যাও ।
গলাবাজি গল্পসল্প বান্দরের মতো
গাছ গাছালি তে ওঠা উঠি ইত্যাদি তে না গিয়ে,
গোঁয়ারের কাজে লেগে যা…।
রাস্তায় হাঁটতে গেলাম গাঁয়ের একজন
মুরুব্বীর সাথে দেখা হয়ে গেলো ।

আমাকে দেখে বলে ওরে গোয়াল ঘরে কবি ,
শুনো বাপের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবে আর কত দিন ।
ওরে গণ্ডূষ !গোঁফ ছাঁটাই কর
এই যুগে ঘোষাই গিরি ছলে না ! বুঝলে ?
তুই তো দিন দিন খোদার খাসি
হয়ে যাচ্ছিস!।
বন্ধু বান্ধব দেখা হলে বলে ওঠে, যখন
তখন,কুমড়ো কাঁটা বট্‌ঠাকুর আসছে
আমাদের মাঝে ।

উনি নাকি আবার রূপক অর্থে ছড়া কবিতা
লিখে,কাষ্ঠ হাসি পায় খুব দিলের মধ্যে ।
চল চল ওর সাথে কথা বলে অযথা সময় নষ্ট
করে ,ঘুঘু চরানোর দরকার নাই ।
গোদের উপর বিষফোঁড়া ! যাক বাবা
সবাই দেখি আমার প্রতি খ্যাপা ।
কিছুদিন পর পুকুর পাড়ে একটু প্রাণ খুলে
বসি,আচমকা কিছু গ্রামের ভাবীরা আসে,
জল নিতে ।

আমায় দেখা মাত্রই ওদের খুঁত খুঁতে খিচুড়ি
তাণ্ডব শুরু হয়ে গেলো ।
ওই ওই শুনচছ ,দেখ দেখ ঘণ্টাগরুড় ডা
কি ভাবে শুয়ে বসে ঝিমায় ।
সবই কিন্তু আমার কর্ণ গহ্বরে যায়
কিন্তু কি আর করা; আমি তো একটা চড়ুই পাখির প্রাণ ।
একদিন তিতাস নদীর ধারে যাই
জোয়ার ভাটা দেখার লক্ষ্যে ।

ঐখানে ও এক খাটাশ মহিলা বলে ,
যায় যায় …টুলো পণ্ডিত মশাই ।
তারপর চুপিচুপি বাড়ি যাই
ধীরে ধীরে বাগানের কাছে গিয়ে,
ফুলের কলি কে প্রশ্ন করি ।
তোমারা কি ?আমার সাথে ছিনিমিনি খেলা করবি ?
যা করে জোড়ের পায়রা !
কি আর বলবো দুঃখের কথা …
ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধা আর কি ।
জবড়জং জিয়ন্তে মারা খেসারতের
আলপনা টেনে টনক নড়া ।
তাই নিজের সাথে আড়ি করে
শুম্ভ-নিশুম্ভের যুদ্ধে লিপ্ত থাকি একাকী গভীর ধ্যানে।

কবিতা, বিবিধ কবিতা

ডাণ্ডা পড়লে সব বেড়িয়ে আসবে

হাতকড়া নিয়ে এসেছি পরিয়ে নিয়ে যাবো আজ তোমায়
আমি বলি অপরাধ কি ? ডাণ্ডা পড়লে সব বেড়িয়ে আসবে,
চলো আগে থানায় চলো—-বলে আগে তদন্ত
হবে তারপর,এখন তোমায় কাঠ গড়ায় দাঁড়াতে
হবে। গ্রেফতারী পরোয়ানা হয়েছে যে তুমি
অপহরণ, ছিনতাই,আঘাত,ধর্ষণ, ডাকাতি ও নির্জনতা
খুন করেছো। তাই গোপনে সংবাদ পেয়ে তোমায়
ধরতে এসেছি,কোন প্রকার অজুহাত চলবে না !
শাস্তি যোগ্য অপরাধ না হলে সাজা প্রদান করা হবে না ।
জবানবন্দি নেওয়া হবে তোমার কাছ থেকে সাধ্য মতো ,
টেনে হেঁচড়ে আমায় আদালতে হাজির করানো হলো,
জজ সাহেব, হাতুড়ির মতো কিছু একটা নিয়ে
বলতে ছিল ,অর্ডার অর্ডার !ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম
শুরু  করা যাক। প্রথমতঃ আসামির পক্ষ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হউক।
রাষ্ট্র পক্ষ উকিল দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই ,মহামান্য আদালত, আমায় বে আইনি
ভাবে আটক করা হয়েছে,ষড়যন্ত্র মূলক আমায় ধরেছে
হে বিচারক মণ্ডলী, মহামান্য মাথা নাড়িয়ে বলে এই ছেলে তো
ভালো কথা বলছে! আজ এখানেই মুলতবি ঘোষণা করা হলো,
আগামীকাল যথা সময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা গেলো।
ঠিক আগের মতো শুরু হলো কার্যক্রম,এবার বাদি পক্ষ
এসে হাজির ,জিজ্ঞাসাবাদ করতে উকিল আসলেন
বলেন ইনি কি আপনার নির্জনতা হরণ করেছে ?
সিঁথির সিঁদুর চুরি করেছে ? প্রতিউত্তরে বলে হ্যাঁ উনি আমার
সব কিছু কেড়ে নিয়েছে ,রাতের ঘুম হরণ করেছে ——-
অর্ডার অর্ডার …আদালত এই মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে ,
সাক্ষ্য মোতাবেক রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী ৩,৫,৯,ধারায়
আসামি কে শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসাবে, ছাঁদনাতলে
নিয়ে ফুলের মালার রশি গলা দিয়ে পনেরো মিনিট, হাঁটতে হবে —
জরিমানা হিসাবে তিন লক্ষ্য টাকা কামিনির হাতে তুলে দিতে হবে ।
চাইলে ক্ষমা পেতে পারে এটা আদালতের এখতিয়ার নেই ,
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি …।।সেই পুকুর পাড়ের মায়া ভরা
ললনা যার জন্য আমি আজ শাস্তি ভোগ করেছি …রায় শুভ হউক ।।

কবিতা, বিবিধ কবিতা, সমসাময়িক সাহিত্য

খেতাব প্রাপ্ত কভিড ১৯

যথেষ্ট হয়েছে এবার ফিরে যাও
তোমার আপন নীড়ে ।
যেই স্থান থেকে এসেছো তুমি
সেই স্থানে ই আবার ফিরে যাও ।
তুমি যা চেয়েছো তা তো তুমি করতে পেরেছো,
যথার্থ হয়েছে ফিরে যাও ।
আর কি চাও !আমার যুদ্ধংদেহীতে বাসা বেঁধে,
ভাসিয়ে দিয়েছো চোখের জলে ।
মায়ের সামনে বাবার সামনে থেকে সন্তান কে
টেনে হেঁচড়ে নিয়ে গেছো গহীন আঁধারে।
পৃথিবীটা কে বানিয়েছো মৃত্যুপুরী,
প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছ অসংখ্য মানুষের প্রাণ ।
শোকার্ত মানুষের কান্নায় ভারি হয়েছে মোনাজাত,
তোমার ভয়ে কাঁপছে মর্ত্যলোক
পালিয়ে যাচ্ছে পুরোনো শুঁকুন গুলি ।
ধ্বংস হয়ে গেছে আশার আলো
মিশে গেছে পুষে রাখা স্বপ্ন ।
কেড়ে নিয়েছো কত নব বঁধুর
ইচ্ছের ডানার উড়া উড়ি ।
বাসস্থান কে বানিয়েছো নরকের অধিপতি
নিধন করেছো অবলীলাক্রমে যা চেয়েছো ।
যাথার্থ্য হয়েছে এবার ফিরে যাও
তোমার প্রভুর সান্নিধ্যে ।
মিশন তোমার পূর্ণ হয়েছে
জয় লাভ করেছো অত্যধিক ভাবে ।
হে, খেতাব প্রাপ্ত কভিড ১৯
আর কত ঘাতকের বেসে ঘুরে বেড়াবে ।
নিরহি মানুষের পিছে পিছে
এবার থামাও তোমার মৃত্যু যজ্ঞ আরাধনা ।
মহামারী আর কত ছড়াবে
বুকের পাঁজরের রক্ত কণিকায় ।
অনেক হয়েছে ফিরে যাও স্বর্গলোকে
আকাশ বাতাস বেধ করে ।
ক্লান্ত শ্রান্ত মনে ফিরে যাও
তোমার মালিকের কাছে ।