কবিতা, প্রকৃতির কবিতা, রূপক কবিতা

জলের স্থলে

কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে দিয়ে গেলো
আমার মৌনতার অদেখা আয়না
খুব অগোছালো ভাবে
ফেলে রেখে চলে গেছে
ছোট কুঁড়ে ঘরে বেদনার রঙ মেখে
জলের স্থলে ভেসে বেড়ায় স্মৃতির হৃদপিণ্ড
আকাশের নীলে উড়ে চলে স্বপ্নের আত্মকথা
বিষণ্ণ চিত্তে চেয়ে থাকি
ছায়ার প্রতিসরণের দিকে
মায়াভরা মুখ খানি
আজো ভেসে উঠে তিতাস নদীর দুকূল ঘেঁষে
চলন বলন অঙ্গে জড়িয়ে
নিয়ে গেছে বিষাদের চৌরাস্তার মোড়ে
এখনো আশায় থাকি ঝড়ের দিনে
যদি আস;
ব্যাকুলতার মালা গেঁথে পূর্ণিমার রাত্তিরে।

কবিতা, প্রকৃতির কবিতা, রূপক কবিতা

স্বপ্নের জালবুনে

স্মৃতি গুলো ভাসে নীরবে তিতাসের পাড়ে
এঁকে দিয়ে যায় মনের ঘরে সন্ধ্যা প্লাবনে।
হঠাৎ ঝড় এসে উড়িয়ে নিয়ে গেলো শ্মশান ঘাটে
দেনা পাওনার হিসেব কষে
বেলা অবেলায় ইন্দ্রজালের প্রভাবে
কূলের ওপারে সোনায় মোড়ানো প্রদীপ জ্বলে
চন্দনের কাঠে
স্রোতের টানে দূরে নিয়ে যায় ব্যাকুলতার হৃদির স্পন্দনে
কষ্টের কাঁটা তারে
তিতাসের পাড়ে সাজাই লাল নীল প্রেমের দীপাবলি
আসবে কবে
নিতে আমায় ওই তটের বন্ধু ফানুসের ডগায় ধরি
কত তরীতে সানাইয়ের সুরের কল্লোল বেজে গেলো
আপন নিয়তির তানে
বিরহীর আগাতে চিতার দহনে দেহ হইলো ছাই
কেউ নিতে আসলো না
স্বপ্নের জালবুনে
আজো ভাসে হাসে
আমার আলপনার চৌকাঠে নূপুরের আওয়াজ তুলে ভরদুপুরে
বৃষ্টি নামে ভাদ্দুরের
রোদ্দুরের তাপে
তিতাসের কূলে মুচকি হেসে ছলনার ক্যানভাস থেকে ।

কবিতা, বিবিধ কবিতা, রূপক কবিতা

ছিঁড়া প্যাঁচা

বিষাদের সংবর্ধনা শোণিত নিঃশ্বাসের শিহরণে বাজে
স্বপ্নলোকের মগজে
রঙিন বেহালার সুরধ্বনি ভেসে আসে
উন্মোচিত অভিমানের উদাসীন খরস্রোত থেকে।
অন্তরঙ্গ প্রেমের হোলি খেলা গুলি
নির্বাসনে গেছে আমায় ফেলে ভবের পারাবারে
নীল চোখে অসংকোচ মনে তাকিয়ে আছি
ধ্বংসস্তূপের ঘাপটিমারা উসখুস জীর্ণ শূন্য পল্লবে।
সঞ্জীবিত দেহে
অবান্তর সিঁড়ি বেয়ে
স্বর্গের শিশিরে উচ্চ শিখরে উঠে যাই আপন সুখে
জনশূন্য মৃত্তিকার মেঠো পথ ধরে
ভাদ্দুরের শীর্ণ দুপুরের বৃষ্টির ন্যায় উড়ে চলি গতিহীন পাড়ে।
অলকানন্দা পরে আছে
সাদা খাতার ছিঁড়া প্যাঁচা শিকলের ফোয়ারা চিত্তের চৌকাঠে
চৈতন্যের দোলাচলে
লিরিকের আওয়াজ আসে
নিষিদ্ধ চোরাবালি থেকে কম্পিত কফিনের পাদদেশ হতে।
কীসের অস্তাচলে
কীসের নেশার জালে
মালাগাঁথি আপন ভুজে
বসন্তের বকুল তলায় বসে
নিঝুম বাঁশির সুর তুলি
বীরোচিত দর্পণে বিদূষক সত্তার টানে পরদেশী বন্ধুর জন্যে।

কবিতা, প্রেমের কবিতা, রূপক কবিতা

ভাদ্দুরের গহীন নিশিতে

ভদ্রার পূর্ণিমার চাঁদ গভীর রাত্তিরে ডেকে বলে আমায়
এই শুনো ঘুমিয়ে আছো নাকি
তখনো আমার ঘুম ভাঙেনি
একটু পর আমি ঘুম থেকে উঠে সুনীল আকাশের দিকে
তাকিয়ে দেখি তারা গুলি এলোমেলো ভাবে খেলা করছে
জোনাকি পোকার সাথে
হঠাৎ বাঁশঝাড়ের দিকে
একটু নজর করে দেখতে পেলাম যে মায়াভরা জ্যোৎস্না
ভাসছে – উড়ছে হোমরাচোমরা দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কঞ্চির ডগায়
অবাক হয়ে আমি দেখতে লাগলাম
কিছুক্ষণ পর চুপচাপ শুয়ে পড়ি নিজ বিছানায়
আবার একটু পরে শুনতে পাই সেই করুণ সুরের ডাক
কই তুমি ঘুমিয়ে গেলে !
আমি তোমার জানালার কার্নিশে
দেখো আমি তোমার জন্যে কত কিছু নিয়ে এসেছি
নিবে !
এক আঁচল ভরা সুখের নদী
খুনসুটির আলতো ছোঁয়া
এক পশলা স্বপ্নের জালবুনা আলপনা !
হে সাথী উঠে দেখো …
কেমন সৌন্দর্যের লীলাভূমির বাসর সাজিয়েছি ভাদ্দুরের গহীন নিশিতে ।

কবিতা, জীবনমুখী কবিতা, বিরহের কবিতা, রূপক কবিতা

অকাল জীবন তরী

ছেঁড়াখোঁড়া অনুভবের স্মৃতি গুলি ফাঁকি দিয়েছে,
দীর্ণ ক্রোধের খেয়ালী পনার ছলে।
কিয়দ্দূরে নিষ্ফল ভাবনার আকাশে ভাসছে,
ধূলোবালি উড়ছে ,
ধমনীর নীল অবিন্যস্ত তৃষিতে।
রোদ্দুরে জমেছে সাদা কালো দুঃখের স্বপ্নিল;
নিরুদ্দেশে ভেসে গেছে ,
নিঃসঙ্গতার ধূসর কচি পাপড়ি যুগল।
অদৃশ্যের বেড়াজালে আটকে গেছে,
গোলক ধাঁধার বহুরূপী মধুর জ্যোৎস্নার প্রভা;
অস্তাচলে,
নিম্ন জলে,
দোলাচলে
মিশে গেছে ,
ব্যাকুল ভাবে ,
আলিঙ্গনের বাসরের মধু চন্দ্রিমা।
বিষাদের গোধূলি তে বিষণ্ণ ত্রিশূলে নিঃশ্বাসের অগোচরে,
আঁধি ঝড়ের চিরন্তন কিমাকরে ডুব দিয়েছে
শ্যামের বাঁশির সুরে মৌনতার কপাট।
জয়োল্লাসে পৈশাচী আঁধিয়ারে চিত্রকল্পের শ্মশান ঘাটে
নিশ্চুপে র স্যুইচবোর্ডে গড়াগড়ি খাচ্ছে,
বৃক্ষ তলে উজান ভাটির ঘাটে,
ঘুণে ধরা অভিলাষের হীরক ঘুড়ির সজীব জমিন।
অভিশপ্ত তীর ভূমির উপকূলে,
আক্ষেপের প্রান্তর থেকে প্রশান্ত রে কুহকিনী র তপ্ত মর্ম স্থলে
খোঁয়াড়ে মূঢ়তা র নিঃসাড়ে,
হারিয়ে গেছে অকাল জীবন তরী।
প্রাণহীন ক্ষিপ্র নিষাদে অনন্তের মায়া লোকে
নিরুদ্বেগ তুষার পাতে,
দীর্ঘশ্বাসের শূন্য প্রহরে ঝাঁপ টি মেরে ঝাঁপিয়ে,
আপন চিত্তে র খেয়ালে
মিশে গেছে কামনা-বাসনার প্রসূন গুলি।
নিরেট শিকল কেটে,
মাখন রঙের সোনালী পুলক পেখম
উনুনের ধোঁয়ায় প্রলাপ মেখে অঙ্গে জড়িয়ে,
পেঁচিয়ে,
কামড়ে ,
লাফিয়ে …
চলে গেছে সুদূর নীলিমার উঠোন জলে।
মরণ প্রতিমা র দেয়ালে,
কঙ্কালে র রক্ত ধারার আঁধারে
ভূগর্ভের সীমান্তে,
অনুরাগের অনুপমের শ্যামল বাগান লীন হয়েছে গভীর অনলে ।