কবিতা, বিরহের কবিতা

স্বোপার্জিত সলিলের প্রাঙ্গণে

কুৎসিত কীটে ভরে গেছে দেয়ালের আস্তরে বাঁদরামির ছলে দোটানার ফলে
অপ্রেমের নির্লিপ্তির নীলচে আঁচলে মরীচিকার ফাটল ধরেছে
জীবন নদীর বন্দরে
উদ্বেল উৎকণ্ঠার উপকণ্ঠে
অচল অদ্ভুত রক্তগামী সিঁড়ির পাদদেশে অবক্ষয়ের জালবুনেছে
অনুসূর্যের টানে প্রভাবিত হয়ে ত্রিবেদী প্রকৃতির মেঘ জমেছে
উল্কা ভরে স্ফটিক রোদ্দুরে
অনুকূল তরঙ্গের নৈস্বর্গে
শঙ্খের দিগন্তে অপলক চাহনিতে বিষণ্ণলোকী নির্মল নটীর অনুভবে
ক্ষয়িত মিলন নির্বল নিস্তারে ঝরে পরে পালঙ্কের কাঁটার প্রভেন্সে
অস্তচাঁদের বিষাদ অলিভে
নির্ভীক সুপক্ক পরিস্ফুটে
হিল্লীলের আচ্ছন্ন বস্তুপুঞ্জে স্তিমিত নিঃসীম অভিভূত অবিশ্বাসের নরকে
প্রেতনীর ভাঙা কপাটে সময়গ্রন্থি সজ্জন শ্রীমন্ত অঞ্জলির ভাটা পরেছে
গীতহারা নিঃশ্বাসের পল্লবে
তল্লাসের শীর্ণাকাশ অঙ্গারে
টসটসে রূপসীর আরাধনার চৌকাঠে অপরাহ্ণের বান ডেকেছে পৌষের আবগাহনে
দুস্তর লোকোত্তর নিখিলের শ্রেয়তর ভাঁড়ের বহতা সমুদ্রের অন্তিম অবিনশ্বর আঘাতে
মানমন্দির গেছে ধুলোর আঁধিয়ারে
ছেঁড়াফাঁড়া মৌরির ম্লান ডাঁটে
মেরুনিশীথের ভ্রান্তি প্রাদেশিক সমাধির স্বোপার্জিত সলিলের প্রাঙ্গণে উইপোকা বাসা বেঁধেছে
আমার মনের গহিনের অজান্তে নিরুদ্দেশের নির্ধূম উৎসাহে সানাইয়ের সুর তুলেছে অবলীলাক্রমে ।

কবিতা, বিরহের কবিতা

বর্ণিল কৈশোরের শস্যক্ষেতে

স্বপ্নের মাঠে বন্ধ ঘরে নিবিড় ধ্যানে প্রদীপ জ্বলে
অদৃশ্যের অলীকমোহের টানে
মরণপ্রতিম জেগে উঠে
নিষাদের কাননে মায়ালোকের বাসনার অস্তাচলে অন্তর্ধানে
নিরন্তর ছুটে চলে প্রস্রবণ নদীর তীরে
পাঁচালির অন্তঃপুরে প্রাচীন স্মৃতির চত্বরে
ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে
নিরিবিলি স্পন্দিত চাঁপারঙের বর্ণিল কৈশোরের শস্যক্ষেতে
এঁকে দিয়ে যায় আশ্বিনের মধ্যরাতে
বিষণ্ণ রক্তিম তৃণভূমির দেয়ালের খোঁয়াড়ে জরাগ্রস্ত সত্তার ছলে
ঝুলে – ঝলক স্পর্শ চোয়ালে গুপ্তচরের কঞ্চিতে
নিগূঢ় নিশীথে যূথীগন্ধী জীর্ণ পিঞ্জরে
সিল্কের হৃদয়ের ঘাটে দীর্ঘশ্বাসের নির্জনতায় বৃষ্টি নামে
উথাল পাতাল ভাবে
সংশয়ের ঘ্রাণে উদ্ভাসিত পুষ্পের তানে বিশীর্ণ বিলাপে মৌনতার তটে
ব্যর্থতার শূন্যতার রঙ অঙ্গে মেখে
তস্করের আঁধিয়ারে কিয়দ্দূরে বটের মূলে
বাজায় বাঁশি শ্মশান ঘাটে শ্যামের সুরে
ডেকে নিয়ে যায় আঁজলা আঁচলি ভরে শোভিত অলিগলির মঠে
চিরচেনা খেয়ালি রত্নদ্বীপের গুপ্তধনে শতচ্ছিন্ন শব্দময় গুঞ্জনে
ঢুলুঢুলু রৌদ্রছায়ার নির্বাপিত তৃষিত যৌবনে
ক্ষণকালের পুস্পদলে ট্রাফিক অঙ্কুরে
ফুটে উঠে জীবন নদীর সৌরভ ভ্রষ্টা ভ্রূণে
ক্রমান্বয়ে চাঞ্চল্য ঢোসকা হাওয়া মাতোয়ারা হয়ে
উদ্ভাসনে ছুটে চলে অধীর গতিতে নিস্তেজ কঙ্কাল দিনান্তে
নিঃশব্দ তন্দ্রার ভিতরে
কোষের প্রতিটি কীটের ওষ্ঠ সাবলীল স্তনপল্লীতে নির্গ্রন্থে
নিরঞ্জন জলকষ্টের অভীষ্ট বেজে উঠে
স্যাঁতসেঁতে ঘৃণ্য কুয়াশার প্রশ্রয়ে
আকর্ষণের জ্ঞাতসারে ছায়ারূপে
শোকের বীণ অনুরাগী হয়ে মনোহীন মর্মমূলে
নিশ্চুপ পেঁচার ন্যায়
অগ্নিবৃষ্টি নামায় আমার বিপর্যস্ত পাকাপোক্ত শহরের খোঁয়াড়ে।

কবিতা, প্রকৃতির কবিতা

নিদ্রাছুট নাভিমূলে

শূন্যতার অমানিশা জ্বেলে প্রাণের তটে বয়ে চলেছো
অবিরাম গতিতে স্মৃতির স্রোতের দীপাধারে
নিদ্রাছুট নাভিমূলে পদচ্ছাপের চিহ্ন এঁকে দিয়ে গেলে
নিষ্প্রদীপ মরীচিকার স্তব্ধতার মানস দীঘির জলে
বিপন্ন বিধ্বস্ত বিচূর্ণিত প্রাসাদে
অপদেবতার ভুজে আস্তাকুঁড়ে
ছিঁড়ে,
ছুঁড়ে,
লাফিয়ে,
চলে গেলে ঝাঁঝাঁ রোদ্দুরের বেঘোরে
ফুলচন্দনের রূপালি জল অঙ্গে মেখে
অবান্তর চিত্তে দাঁড়িয়ে আছি
সর্পিল দৃষ্টির ছলে
তোমার মাতাল প্রকৃতির দিকে
সংকোচে চোরাবালির চিরলীনে
মায়াবী মধুরিমার রহস্যলোকের সন্ধানে বেড়িয়েছি
বহুকাল আগে পাবো বলে তাঁরে
ঘুট্‌ঘুটে আঁধিয়ারে মিশে আছো
নির্জনতার ভ্যাবাচ্যাকা অলি গলির অন্তর্হিত নীলিমার ব্যর্থ প্রেতলোকে
নিমীলিত অনুরাগে অনপমে
মণিকা মালতী কিঞ্চিৎ ঊষার আলো দিয়ে
ঢেকে রেখেছো আপন ছোঁয়ায় ইন্দ্রজালের প্রভাবে
তিতাস নদীর দু কূল ঘেঁষে ।

কবিতা, প্রেমের কবিতা

ভালোবাসার বাহুডোরে

ইচ্ছে করে তোর
সপ্তপদী সুমন্ত – ঘুমন্ত বিজন কৈশোরের উদ্যানে অগোচরে ঘুরে আসি
ইচ্ছে জাগে তোর স্মৃতির জাল ছিঁড়ে
উচ্ছল বিলম্বিত রূপালি শহরের ঘাটে ঘর বাঁধি
ইচ্ছে করে তোর বর্ষার দেয়ালে
নিবিড় প্রেমের সিম্ফনির আলপনার রঙ তুলির জলছবি আঁকি
ইচ্ছে জাগে তোর প্রসন্ন গোধূলি বেলায় প্রাণবন্ত যৌবন নদীটিকে
ভাসিয়ে দেই নিপুণ নিশ্চুপ শূন্যতার ভাস্করে
ইচ্ছে আছে তোকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাসের সীলমোহর মেরে
হৃদস্পন্দনের প্রান্তর পেরিয়ে বালিয়াড়িতে সংসার সাজাবো
ইচ্ছে করে তোর মনের কম্পমান ক্ষ্যাপাটে
চরাচরে,
দোলাচলে,
ভোরের ক্ষিপ্র শিশির ভেজা পাখি হতে
ইচ্ছে করে তোর অরণ্যের ভগ্নাংশে
আলিঙ্গনের নৃত্যের পুষ্পিত প্রণয় – বিলাসের এক পশলা চিমটি কাটি
ইচ্ছে করে তোর ঘ্রাণময় কাঁপুনি – ঝাঁকুনি
এলোমেলো ছায়াচ্ছন্ন দৃশ্যান্তর চিকুরে
নিষিদ্ধ মন্ত্রের পায়চারির ফটোগ্রাফ করি
ইচ্ছে করে তোর সজীবতার লাল নীল আকাশের নোনা ঘাটে
নোঙর ফেলি নির্ভুল রঞ্জিত একরাশ গোলকধাঁধার মুগ্ধাবেশে
ইচ্ছে করে তোর নিষ্প্রভ ফ্যাকাশে
স্পর্শ কাঁটাময় অমাবস্যার আপাদমস্তক সমুন্নত অনশনে
অনিমেষে সুতীক্ষ্ণ নিঃশ্বাস ফেলতে
ইচ্ছে করে তোর,
স্বপ্নঝিলিক স্বর্ণস্পর্শাতীত ডুবুরী লোফালুফি চোখের চাহনিতে
ফাগুনের বৃষ্টি নামাই টালমাটাল হয়ে
ইচ্ছে জাগে তোর,
আগ্রাসী- মহাগ্রাসী ছুঁচোলো সন্ধিগ্ধ পাঁজরের মঞ্চে
প্রজাপতির করতলে,
বিরামহীন সুরের ঝংকারের রিনিঝিনি তুলি ভালোবাসার বাহুডোরে।

কবিতা, প্রকৃতির কবিতা, রূপক কবিতা

জলের স্থলে

কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে দিয়ে গেলো
আমার মৌনতার অদেখা আয়না
খুব অগোছালো ভাবে
ফেলে রেখে চলে গেছে
ছোট কুঁড়ে ঘরে বেদনার রঙ মেখে
জলের স্থলে ভেসে বেড়ায় স্মৃতির হৃদপিণ্ড
আকাশের নীলে উড়ে চলে স্বপ্নের আত্মকথা
বিষণ্ণ চিত্তে চেয়ে থাকি
ছায়ার প্রতিসরণের দিকে
মায়াভরা মুখ খানি
আজো ভেসে উঠে তিতাস নদীর দুকূল ঘেঁষে
চলন বলন অঙ্গে জড়িয়ে
নিয়ে গেছে বিষাদের চৌরাস্তার মোড়ে
এখনো আশায় থাকি ঝড়ের দিনে
যদি আস;
ব্যাকুলতার মালা গেঁথে পূর্ণিমার রাত্তিরে।